সংস্থার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা/পটভূমি:
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, দলীয় রাজনীতিমুক্ত  ও অলাভজনক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান । টিআইবি এমন এক বাংলাদেশ দেখতে চায় যেখানে সরকার, রাজনীতি, ব্যবসা-বানিজ্য, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবন হবে দুর্নীতির প্রভাব মুক্ত। সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসনের চাহিদা গড়ে তুলতে ১৯৯৬ সাল থেকে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন হিসেবে টিআইবি কাজ করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিশ্ব আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবি বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টার হিসেবে স্বীকৃত এবং সেই হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে টিআই-এর বিশ্বব্যাপী  অন্যান্য চ্যাপ্টারগুলোর সাথে এটি একযোগে কাজ করে থাকে।   
একটি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন হিসেবে টিআইবি তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য নাগরিক সমাজকে সংগঠিত করছে ।  প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি রোধ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা, জরিপ ও অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য চাহিদা তৈরি করছে, অন্যদিকে তৃনমূল পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জোরদার করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সততা, নিরপেক্ষতা ও সকলের সমান অধিকার এসব মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ থেকে টিআইবি বাংলাদেশে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠির পক্ষ হয়ে টিআইবি কাজ করে না এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দুর্নীতির ওপরও কোন অনুসন্ধান বা তথ্য প্রকাশ করে না। এর সকল কার্যক্রম দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সরকার বা এর কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়।     
দুর্নীতি প্রতিরোধে আপামর জনগণের দাবী জোরদার করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি পরিবর্তনে অনুঘটকের ভূমিকা পালনে সচেষ্ট রয়েছে। তাই টিআইবি জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরণের গবেষণা, স্টাডি, কর্মশালা, সেমিনার এবং এডভোকেসি সভা করা ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।|
সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য সংখ্যা: ট্রাস্টি বোর্ড টিআইবি’র সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। এ বোর্ড টিআইবি’র কাজের নেতৃত্ব ও নির্দেশনা দেয়। ট্রাস্টিরা হচ্ছেন:
চেয়ারপার্সন    : অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল
          প্রাক্তন উপদেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার
মহাসচিব        : সেলিনা হোসেন
          নির্বাহী পরিচালক, ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশন
কোষাধ্যক্ষ    : মাহফুজ আনাম
          সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্যা ডেইলি স্টার
সদস্য        : তৌফিক নেওয়াজ
          সিনিয়র অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
          সৈয়দা রুহী গজনবী
         ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অরণ্য
         এম. হাফিজউদ্দিন খান
             প্রাক্তন উপদেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার
          ড. এ. টি. এম. শামসুল হুদা
          প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার
           রোকেয়া আফজাল রহমান
          প্রাক্তন উপদেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার
          ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম
          অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
          ড. আকবর আলী খান
          প্রাক্তন উপদেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার
          আলী ইমাম মজুমদার
             প্রাক্তন মন্ত্রিপরিষদ সচিব
নির্বাহী পরিচালক    : ড. ইফতেখারুজ্জামান

২. সংস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
টিআইবি’র ভিশন
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি স্বাধীন, দলীয় রাজনীতিমুক্ত এবং অলাভজনক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। টিআইবি এমন এক বাংলাদেশ দেখতে চায় যেখানে সরকার, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবন হবে দুর্নীতির প্রভাব থেকে মুক্ত।

টিআইবি’র মিশন
দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি জোরালো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে টিআইবি সক্রিয়, যাতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা/প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি রোধ করা যায় এবং সেই সাথে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রশাসন, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দেশের সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা যাতে গড়ে ওঠে সে লক্ষ্যেই টিআইবি কাজ করছে।