ভূমিকা ও পটভুমি ঃ

পোভার্টি ইরাডিকেশন প্রোগ্রাম (পিইপি) একটি বেসরকারী অলাভজনক উন্নয়ন সংস্থা। ১৯৮৫ সালে একজন মার্কিন নাগরিক জনাব উইলিয়াম ক্রিস্টেনসেন দরিদ্র মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়ে এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। সংস্থাটি সমন্বিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে দরিদ্রতম জনগোষ্টিকে তাদের অবস্থা থেকে উত্তোরনের একটি মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে যার মাধ্যমে দ্রুত গতিতে চরম দরিদ্র পরিবারদেরকে তাদের দারিদ্র অবস্থা থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়। শুরুতে বগুড়া জেলার ধুনট থানায় বন্যাদূর্গত পরিবারদের খাদ্য, চিকিৎসা, ঘর মেরামত ইত্যাদি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়; পরবর্তীতে দরিদ্র মানুষের কৃষি কাজ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্য সহায়তা, পুষ্টি প্রদান, শিক্ষা, ভুমিহীন পূনবার্সন, স্বা¯্যসম্মত পায়খানা ও খাবার পানির ব্যবস্থা, রাস্তার দুই ধারে ও বসত-বাড়িতে ফল ও কাছের চারা রোপন, ইত্যাদি যাবতীয় কার্যক্রম সংযুক্ত হতে থাকে এবং বগুড়ার আরও দুটি থানা, নেত্রকোণা, চাঁদপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলাগুলোতে সংস্থার কার্যক্রম বি¯তৃত করা হয়। বর্তমানে সংস্থাটি ৪ টি জেলার ৯ টি উপজেলায় ৭৫টি ইউনিয়নের ১,৫৭২টি গ্রামে কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে।

এ মডেলের কর্মকৌশল সরকার, প্রচার মাধ্যম এবং বিদেশী সংস্থা কর্তৃক সমাদৃত হয়েছে। দারিদ্র দূরীকরণে সংস্থাটি স্বল্প খরচের একটি মডেল হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সংস্থার উন্নয়ন কর্মকান্ড সরাসরি সরকারের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সাথে সম্পৃক্ত এবং সরকারের উপজেলা-ভিত্তিক দারিদ্র বিমোচন কার্যক্রমের সাথে সমর্থিত। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উপজেলা-ভিত্তিক প্রকল্পসমূহ স্থানীয় জনগনকে সম্পৃক্ত করে তাদের চাহিদার ভিত্তিতে সেবাদান নিশ্চিত করে থাকে।  

২. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমূহঃ
লক্ষ্য ঃ
উপজেলা ভিত্তিক সমম্বিত গ্রামীন উন্নয়নে একটি মডেল নির্মাণ করা।

উদ্দেশ্য সমূহ ঃ
-     সংস্থার কর্ম এলাকায় দারিদ্রের হার কমিয়ে আনা।
-     হত দরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দরিদ্র পরিবার যাতে তাদের খাদ্যের চাহিদা পূরণসহ মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণ করতে পারে এ জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।
-     প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদেরকে কৃষি উপকরন (বীজ, সার ইত্যাদি) সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নতুন প্রযুক্তি প্রদানের মাধ্যমে সীমিত জমিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
-     পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও এর উন্নয়ন ঘটানো; কর্ম এলাকাগুলিতে ফল ও কাঠ গাছের মাধ্যমে বনায়ন করা।
-     ভুমিহীনদেরকে কৃষি জমি ব্যবহার ও পশু পালনের সুযোগ সৃষ্টি করা ও  ।
-     ভূমিহীন দরিদ্র পরিবার বিশেষ করে নারী প্রধান পরিবারের দৈনিক আয়ের জন্য কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি করা।
-     বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লক্ষিত পরিবার বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মানব সম্পদে রূপান্তর করা।
-     সমন্বিত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মসূচি’র মাধ্যমে দরিদ্ররা যেন মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা পায় তা নিশ্চিত করা ।
-     দরিদ্র শিশুদের জন্য অন্তত প্রথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা; নিজস্ব সংস্থায় ২য় শ্রেণী পর্যন্ত এবং সরকারী বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণীতে ভর্তি নিশ্চিত করা।
-     জলাভূমির উন্নয়ন করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, ভূমিহীন পরিবারদের অভিবাসন প্রদান, আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহন করা।
-     পথ-শিশুদের সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের অনিশ্চিত জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করা।  

৩. নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য ঃ  
ক্রমিক
নং    অনুমোদন/নিয়ন্ত্রণকারী
সংস্থার নাম    রেজিষ্ট্রেশন নং, তারিখ ও সাল    মন্তব্য
০১    সমাজসেবা অধিদপ্তর    নেত্র-০০১৬ তারিখ ঃ ০৫/১১/১৯৮৫    হালনাগাদ নবায়ন আছে।
০২    এনজিও বিষয়ক অধিদপ্তর    ২৫৭ তারিখ ঃ ২৭/০১/১৯৮৮    হালনাগাদ নবায়ন আছে।
০৩    জয়েন্ট স্টক কোম্পানী     ঝ-২৬০৪(১৭) /২০০১ তারিখ ঃ ১৬/০৮/২০০১    আইআইআরডি নাম পরিবর্তন করে পোভার্টি ইরাডিকেশন প্রোগ্রাম (পিইপি) নামে সনদ এর জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে।
০৪    মাইক্রোক্রেডিট
রেগুলেটরী অথরটি    নিবন্ধন নং-০০২০৪-০১৪৬৯-০০৫৩৬; তারিখ ঃ ০১/১১/২০১০
    আইআইআরডি নাম পরিবর্তন করে পোভার্টি ইরাডিকেশন প্রোগ্রাম (পিইপি) নামে সনদ এর জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে।

৪. পিইপি’র দৃষ্টিতে লক্ষিত পরিবারের ধরণ চিহ্নিতকরণ ঃ

প্রথমত সংস্থার কর্ম এলাকায় জনসাধারনকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। যথা - সাধারন পরিবার ও লক্ষিত পরিবার। সাধারন পরিবারগুলোর জন্য সরাসরি সহায়তা প্রদান তেমন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় না; লক্ষিত পরিবাগুলোকেই মূলতঃ সহায়তা প্রদানের জন্য সংস্থা বিভিন্নœ ধরণের কর্যক্রম বস্তবায়ন করে থাকে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা প্রদানের জন্য লক্ষিত পরিবারগুলোকে আবার ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে; প্রতি ৩ বছর পর-পর রেটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের ধরন হালনাগাদ করা হয়। এ চার প্রকার দারিদ্র পরিবারকে নি¤েœাক্তভাবে সজ্ঞায়িত করা হয় ঃ

অতি চরম গরীবঃ    
একটি গ্রামের সবচেয়ে গরীব ১০% থেকে ১৫% পরিবার। তারা দিনে মাত্র একবার খেতে পায় এবং বসবাসের অযোগ্য বাসস্থানে থাকে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মহিলা প্রধান পরিবারগুলো এ শ্রেণীর আওতায় পরে থাকে। চরম দরিদ্র পরিবারগুলো মূলতঃ সম্পদহীন এবং তাদের সাধারণত কোন জমি নেই কিংবা বাসস্থানের জন্য সামান্য জমি থাকতে পারে।

চরম গরীবঃ    
পরবর্তী ২৫% থেকে ৩৫% পরিবারগুলো সাধারণত এ শ্রেণীর আওতায় পরে। তারা সাধারণত দিনে দু'বেলা খাবার পায় এবং মানবিক জীবন যাপন করতে সক্ষম হলেও তাদের পরিবারের যথেষ্ট আর্থিক নিরাপত্তা নেই। এ শ্রেণীর দুই তৃতীয়াংশ পরিবারের কোন জমি নেই বা বাসস্থানের জন্য সামান্য জমি আছে। অন্য এক তৃতীয়াংশ প্রান্তীক চাষী যাদের বাসস্থানের আশে পাশে ১ থেকে ৫০ শতাংশ চাষ করার মত জমি আছে। তাদের দারিদ্রের মাত্রা সাধারণত নির্ভর করে পরিবারের মোট সদস্যের কতজন আয়ের সাথে জড়িত তার উপর।

খুব গরীব-বেশী দূর্বলঃ    
যারা সাধারণত তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো মিটাতে পারে কিন্তু তাদের যে কোন সময় গরীব হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এরা সাধারণত দারিদ্রের নিম্ন স্তর থেকে পরবর্তী ৪১% থেকে ৬০% এর আওতায় পরে। এদের মধ্যে ৬০% হচ্ছে প্রান্তীক চাষী যাদের ১ থেকে ৫০ শতাংশ চাষযোগ্য জমি আছে এবং বাকী ৪০% শতাংশ ক্ষুদ্রচাষী যাদের ৫১ থেকে ১০০ শতাংশ চাষ করার জমি আছে।

খুব গরীব-দূর্বলঃ        
উপরোক্ত তিন শ্রেণীর উপরে যে শ্রেণীটি তাদের দারিদ্র থেকে নিজেদের অনেকটা মুক্ত করতে পেরেছেন। আইআইআরডি সাধারণ কিছু কর্মসূচীর মাধ্যমে তাদের সহায়তা করে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না তিন বছর পরবর্তী রি-রেটিং থেকে তাদের অবস্থান শক্ত হয়েছে কি জানা না যায়।  

৫. কিশোরগঞ্জ জেলায় সংস্থার সেবা সমূহ ঃ

১) শিশু শিক্ষা-২য় শ্রেণী পর্যন্ত (পুষ্টি প্রদান সহ)
২) ক্ষুদ্র সহায়তা প্রকল্পের আওতায়, ছাগল বিতরন, হাঁস/মুরগী বিতরন, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য পুজি প্রদান,খাদ্য সহায়তা, ঘর মেরামত, মাছ চাষের জন্য জাল/দড়ি/নৌকা প্রদান ইত্যাদি।
৩) শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরন।
৪) রাস্তা বনায়ন ও পারিবারিক বনায়ন।
৫) গরু পালন
৬) বসত ভিটার ভূমি উন্নয়ন।
৭) টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন বিতরন।
৮) শিশু, গর্ভবতি ও দুগ্ধদানকারী মায়েদর মাঝে বিনামূল্যে ভিটামিন-এ, কৃমিনাশক, এবং মাল্টিভিটামিন প্রদান।
৯) ভোগ্যপণ্য ও ক্ষুদ্র ঋণ।